হওয়া না হওয়ার গল্প

স্বর্ণেন্দু সেনগুপ্ত



মানুষ যা হতে চায়, সেটাই তার আসল পরিচয় । শেষপর্যন্ঠযা হয়ে ওঠে, তা ঘটনাচক্র । কথাকটি আমার মনে থাকে, মনে রাখি । বলেছিলেন, কবি আলোক সরকার । দু-বার মাত্র গিয়েছি তাঁর কাছে । দু-বারের একবারো তিনি এ কথা বলেন নি । কোথাও পড়েছিলাম, মনে রয়ে গেছে, মনে রেখে দিয়েছি । অনেককে বলেছি, অনেককে বলিনি । বলেছি তাদের, যাদের হয়ে ওঠা নিয়ে এক অতৃপ্তি টের পেয়েছি । তাদের বলিনি, যাদের হয়ে ওঠা, হয়ে না ওঠা এসব নিয়ে কোনো ভাবনা নেই, অতৃপ্তি নেই । যারা মুখে সবসময় সম্পূর্ণতঠর হাসি মেখে থাকেন, তারা বুঝবেন না এ কথার অর্থ, আমিও বোঝাতে পারব না ।
একজন অনুভূতিপ্ঠ°à¦¬à¦£ মানুষেরই না হয়ে ওঠা থাকে । সেনসিটিভ মানুষ বলতে যাদের বুঝি আমরা, তাদের । খুব স্থূল মানুষের মধ্যেও দেখেছি, নিজের অবস্থান নিয়ে অতৃপ্তি রয়েছে । এই অতৃপ্তি আসলে না হয়ে ওঠার অতৃপ্তি নয়, না পাওয়ার অতৃপ্তি । না হয়ে ওঠা, না পাওয়া এক জিনিস নয় । স্থূল মানুষেরা পেতে চান, আরো আরো পাওয়ার মধ্যে সকল তৃপ্তি লুকিয়ে রয়েছে, এমনটাই তাদের বিশ্বাস । অনুভূতিপ্ঠ°à¦¬à¦£, মননশীল একজন মানুষ হয়ে উঠতে চান, পাওয়া নয়, হারানো । তাদের হয়ে ওঠা অনেকটাই হারাতে হারাতে হয়ে ওঠা, হারতে হারতে হয়ে ওঠা । নিঃস্ব হতে হতে পূর্ণ হয়ে ওঠা ।
অনেক দারিদ্রের মধ্যে যে ঐশ্বর্য দেখা যায়, ধনিরা তার সামান্যতমঠধারণ করতে পারে না । কী এই ঐশ্বর্য, যা তারা ধারণ করে থাকেন, আমি বলতে পারব না । সমগ্র অস্তিত্ব জুড়ে থাকা এই আলোটুকু অনুভব করে নিতে হয়, এই আলো চোখ ঝলসে দেওয়ার মতো সেই আলো নয়, ভিতরে ভিতরে যা আলোকিত করে তোলে সেই আলো । এই আলোর খোঁজটুকু চলতে থাকে । শিল্প, সাহিত্য, কবিতা আসলে ভিতরে ভিতরে আলোকিত হওয়ার এক এক রকমের পথ, এই পথ ভিতরে ভিতরে আলোকিত করারও পথ । একটি কবিতা, কবি ও পাঠক উভয়কেই আলোকিত করে । অন্যথায়, কবিতাটি ব্যর্থ । কবিতাটির সফলতা বলে দেয়, যিনি রচনা করেছেন তিনি কবি হয়ে উঠলেন । যিনি পাঠ করলেন, একইভাবে পাঠক হয়ে উঠলেন । আলোটি, ভিতরে ভিতরে ছড়িয়ে গেল, ভিতরে ভিতরে আলোকিত করল । আমরা দেখতে পেলাম না সে আলোর ছটা, অনুভব করলাম । বোঝাতে পারলাম না, বুঝতে পারলাম ।

২.
একজন কবি, প্রথমত তিনি একজন অনুভূতিপ্ঠ°à¦¬à¦£ মানুষ , তাঁর মননশীলতা সর্বজনবিদি ত । একজন কবি, পুরস্কার খ্যাতি যশের থেকে অনেক দূরে দাঁড়িয়ে থাকেন, তিনি হয়ে উঠতে চান । বিখ্যাত হওয়ার ইচ্ছে তাই কারো কারো অশ্লীল মনে হয়, এখানে ঐ হয়ে ওঠা নেই । খ্যাতি আছে, অনেক পাওয়ার প্রলোভন আছে, নিঃস্ব হওয়ার সুযোগ নেই । হয়ে ওঠা নেই । আত্মজীবনী রচনার আগে, এক আলাপচারিতঠয় উঠে এসেছিল , কেমন হবে সে রচনার অভিমুখ, কবি আলোক সরকার সেখানে যা বলেছিলেন তার অন্তর্নিহঠত অর্থ দাঁড়ায়, জীবনে যা যা ঘটে সবই সত্য, যেগুলো ঘটলো না কিন্তু ঘটলে ভাল হতো বলে ভাবা হয় সেগুলোও তাঁর কাছে কম সত্য নয় ।‘যা হয়েছি সত্য যা হতে চেয়েছি তা-ও কম সত্য নয়’। এ রচনাটি শুরু হয়েছিল যে উক্তি দিয়ে তারই প্রতিধ্বনি এই বক্তব্যের মধ্যেও পাওয়া যাচ্ছে । এখান থেকে বুঝে নেওয়া যায়, তাঁর à¦†à¦¤à§à¦®à¦œà§€à¦¬à¦¨à¦•à ¥à¦¾à§Ÿ ‘হওয়া’-র থেকেও ঝোঁক থাকবে, ‘হতে চাওয়ার’ দিকে ! অর্থাৎ যা হয়ে উঠতে চাইছেন তাই আসল পরিচয় । যেগুলো ঘটলো না অথচ ঘটবে বলে ভেবেছিলেন, সেগুলো সত্য, এক সুদূরপ্রসঠরী সত্য । à¦†à¦¤à§à¦®à¦œà§€à¦¬à¦¨à§€à ° কাছে যেতে চাইছেন, তার আগে, জীবনের যা কিছু সঞ্চয়, যা কিছু ঘটনা সবকে অস্বীকার করে যেতে চাইছেন, নিজেকে নিঃস্ব করে পূর্ণ হয়ে উঠতে চাইছেন তিনি ।এইভাবে যে কোনো একটি লেখার দিকে এগিয়ে যাওয়া, নিজের নিঃস্বতার দিকে এগিয়ে যাওয়া আসলে । যা নেই, তাকে ফুটিয়ে তোলা । না বলার থাকত যা তাকেই ভাষা দিয়ে ধরতে চাওয়া । অদৃশ্য থেকে যেত যা তাকে দৃশ্যে ফিরিয়ে আনা । এইভাবে একটি কবিতার জন্ম হচ্ছে, একজন কবি পূর্ণ হয়ে উঠছেন, আলোকিত হয়ে উঠছেন ।
হওয়া না হওয়ার খেলা এভাবে চলতে থাকে । পরিপূর্ণ হয়ে ওঠা একধরনের নিঃস্ব হয়ে ওঠা । আছি, এই না থাকার মধ্য দিয়ে আছি, নিজের অনস্তিত্বঠে প্রমাণ করা— এভাবেই কি বুঝতে চেয়েছিলেন কবি আলোক সরকার à¦†à¦¤à§à¦®à¦œà§€à¦¬à¦¨à¦•à ‡ ? তাঁর কবিতায় বারবার একটি না কে প্রতিষ্ঠিত হতে দেখা যায়, এই ‘না’, এই অনস্তিত্ব । বলা হয়ে থাকে, কবিতা নাকি কবির à¦†à¦¤à§à¦®à¦œà§€à¦¬à¦¨à§€à ° এক-একটি খসড়া à¥¤â€˜à¦†à¦¤à§à¦®à¦œà§€à¦¬à ¨à§€ লেখা আমার এখনো হয়ে ওঠেনি, তার বদলে আমি কবিতা লিখছি’, আত্মজীবনী রচনার অনেক আগে এ কথাকটি লিখেছিলেন আলোক সরকার, অর্থাৎ জীবন, জীবনের মতো এক কঠোর-কঠিন প্রতিষ্ঠান কেও তিনি প্রতিহত করেছেন বারবার, কবিতায়, কবিতায় নিহিত দর্শনে ।


à§©.
যে কবিতা, বলা ভাল কবিতার দর্শন, তাঁর কাছে আত্মজীবনী রচনার পরিপূরক ছিল, à¦†à¦¤à§à¦®à¦œà§€à¦¬à¦¨à§€à ° মধ্য দিয়ে সেই দর্শনটিকে আরও জোরালো ভাবে প্রতিষ্ঠা দিলেন আসলে । à¦†à¦¤à§à¦®à¦œà§€à¦¬à¦¨à§€à ° শুরুর কয়েক ছত্র এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে ।
‘ আমার প্রথম ভয়-পাওয়ার কথা লিখে রাখছি । আরো অনেক ভয়-পাওয়া আছে, তাদের কথা পরে লিখব । অনেক অনেক ভয়-পাওয়া, অনেক অনেক অসহায়, অনেক অনেক মেঘ রঙের বিষাদ; এই সব নিয়েই তো জীবন’।
ভয় আসলে তো নিঃসঙ্গতাঠ° অভিব্যক্তঠ¿, নিঃস্বতার অনুভূতি । এই ভয় পাওয়া, এই অসহায়, এই বিষাদ আসলে এক-একটি ‘না’ এর বিভিন্ন রূপ, বিভিন্ন রঙ ! এই রঙগুলো নিয়েই জীবন । জ্বালানি কাঠ পুড়তে পুড়তে নিঃস্ব হয়, একটি জীবন তেমনই এক নিঃস্বতার রঙে পরিপূর্ণ ।
আবার আমাদের লেখা কথাগুলি, আমাদের বলা কথাগুলির মতো নয় । কেননা, আমাদের বলা কথাগুলি আমাদের শোনা কথাগুলির মতো নয় । আমাদের বলা কথাগুলি, আমাদের বলতে চাওয়া কথাগুলির মতোও নয় । আমাদের শোনা কথাগুলিও, শুনতে চাওয়া কথাগুলির মতো নয় । একরকম হয়ে ওঠার কোনো প্রতিশ্রুত ি আছে কিনা জানিনা, কোনো দায় আছে কিনা জানিনা, কিন্তু একরকম যে নয় এটা খুব একরকম ভাবে জানি । ব্যবহারের মধ্য দিয়েই ভাষার ব্যাপ্তি ও সম্ভাবনা । আবার তার এই সম্ভাবনার মধ্যে, প্রকৃতির মধ্যে, এই না হয়ে ওঠাটি নিহিত রয়েছে ।
একরকম হয়ে ওঠার মধ্যে একটা স্থিতি রয়েছে, অনগ্রসরতা তার সমগ্র আয়োজন নিয়েই রয়েছে । একরকম না হয়ে ওঠার মধ্যেই আসলে শিল্পের ভবিষ্যৎ নিহিত রয়েছে । এই ভাবনাটি থেকে বুঝে নেওয়া যায় যে, শোনা এবং শুনতে চাওয়া, বলা এবং বলতে চাওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, প্রতিযোগিঠ¤à¦¾ রয়েছে । কখনো বক্তা শ্রোতাকে পরাজিত করে, কখনো শ্রোতা বক্তাকে দমিয়ে রাখতে চায় । আর সমস্ত প্রতিযোগিঠ¤à¦¾à¦‡ আসলে এগিয়ে যাওয়ার, ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিঠ¤à¦¾ ।
সুতরাং আমাদের বলা কথাগুলি, যা বলতে চাই, তা নয় । আমাদের শোনা কথাগুলি, যা শুনতে চাই, তা নয় । আলোক সরকারের কবিতা আসলে এই না-গুলিকে খুঁজে ফেরে, এই না-গুলিকেই প্রতিষ্ঠা দেয় । তিনি বিশ্বাস করেন, শিল্প আসলে এই না এর সাধনা । ফলত না ঘটা অনেক ঘটনার সমাহার নিয়েই তিনি জীবনটাকেও ভাবতে চাইবেন, এটাই স্বাভাবিক । জীবনটা তাঁর কাছে একটি দর্শন যেন, একটি সিদ্ধান্ত । জগত ও জীবনকে দেখতে চাওয়ার নিজস্ব একটি পথের নির্মাণ করে নিয়েছিলেন শুরুতেই । সেই পথ ধরেই এগিয়ে চলা, তারপর ।

৪.
আবার একবার à¦†à¦¤à§à¦®à¦œà§€à¦¬à¦¨à§€à ° কথায় ফিরি, আবার একবার বিস্ময়ের কথায় ফিরি । ভিতরের চোখ দিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন যা, তার অধিকাংশ হয়ে দাঁড়ালো চোখের ভিতর দিয়ে দেখা, যা ঘটেছে তারই বিবরণ আসলে । এইসব ঘটনাবলী অবশ্যই গুরুত্বপূঠ°à§à¦£, কিন্তু আমরা তো খুব বেশি করে সেই না ঘটা ঘটনাগুলির কথাই জানতে চেয়েছিলাম একজন কবির à¦†à¦¤à§à¦®à¦œà§€à¦¬à¦¨à§€à ° কাছে, মনের ভিতরের রহস্যময় ক্রিয়াকলাঠª, তার একটি ছবি অন্তত পেতে চেয়েছিলাম এই à¦†à¦¤à§à¦®à¦œà§€à¦¬à¦¨à§€à ¤à§‡ । উনি জানাতেও তো চেয়েছিলেন তাই ! তাহলে এমনটি ঘটে গেল কেন ? এটি-ই ঘটনাচক্র আসলে । হতে চেয়েছি যা, আর যা হয়েছি তার মধ্যে এক অসেতুসম্ভঠ¬ ফারাক থেকে যায় যেমন, লিখতে চেয়েছি যা, আর শেষপর্যন্ঠযে লেখা আমাদের ধরা দেয়, দুটো এক আর হবে কী ভাবে ! এই হওয়া না হওয়ার টানাপোড়েনঠŸà¦¿ তাই চিরকালীন । জীবন,শিল্প, সাহিত্য, কবিতা, গান, নাটক, চলচিত্র, রাজনীতি সবকিছু জুড়েই আসলে এই হওয়া না হওয়ার খেলা ।
আমাদের সৃষ্টিগুলঠএকই অর্থে আমাদের অসম্পূর্ণঠ¤à¦¾à¦•ে ধারণ করে আছে । ভাবনার অসম্পূর্ণঠ¤à¦¾ নয়, গঠনের অসম্পূর্ণঠ¤à¦¾ নয়, ভাবনাকে যথাযথ রঙে, রেখায়, লেখায়, গেয়ে ওঠায়, সুরে, অভিনয়ে, হাসিতে, কান্নায়, বলায়, বলানোয় ধরে ফেলতে না পারার অসম্পূর্ণঠ¤à¦¾ । অসম্পূর্ণঠ¤à¦¾à¦° রঙে আমাদের সকল সম্পূর্ণতঠর ছবিগুলি আঁকা হয়ে আছে । এই কথাকটি মনে রেখে সম্পূর্ণতঠর দিকে যাত্রা, আমার আপনার আমাদের সবার !
এই লেখাটি চলছে যখন, মাঝখানে, একবার কবি আলোক সরকারের কিছু কবিতা পড়া শুরু করি । জীবন থেকে কবিতা, কবিতা থেকে জীবন এই যাওয়া আসাগুলি যেহেতু ঘটে চলেছে আমাদের বোঝার পথ ধরে, তাঁর বোঝানোর পথ ধরে, তাই আরো একবার তাঁর কবিতার কাছে যাওয়া । কবিতাগুলি দেখতে চাওয়া, দেখার ভিতর দিয়ে বুঝতে চাওয়া । একটি কবিতা আপাতত এখানে দিই, আমার পড়াটাকে, আমাদের পড়ায় নিয়ে আসি !


অনেকগুলো না-হওয়ার পর
একদিন হওয়া হল ।

এক তাড়াতাড়ি স্কুলবাড়ি এসে গেছে ।
জবাফুলগুলৠর রং এত লাল ।
পাখিদের ওড়াওড়ি এই রকম সবুজ ।

আনন্দধারা যখন উপহার আনে
অঞ্জলি ভরে উপহার আনে ।

(শোনো জবাফুল । পৃষ্ঠা: ১৩)
এতক্ষণ ধরে বুঝতে চেয়েছি যা, এই কবিতার মধ্যে তার একটা সরাসরি সমর্থন পাওয়া গেল । শুরুর ‘না’, শুরুর নিঃস্বতা, ক্রমে এক পরিপূর্ণতঠয় দিকে গেল, আনন্দিত উপহারে, অঞ্জলিভরা উপহারে-র দিকে গেল । কোনোরকম ব্যাখ্যার দিকে না গিয়েও, কবিতার একটা ইঙ্গিত থাকে, সেই à¦‡à¦™à§à¦—à¦¿à¦¤à¦Ÿà¦¾à¦•à §‡ বুঝতে চাইলাম এখানে । সকল সম্পূর্ণতঠ, সকল পরিপূর্ণতঠর শুরু একটি না থেকে, একটি নিঃস্বতা থেকে ।

à§«.
তিনি à¦†à¦¤à§à¦®à¦œà§€à¦¬à¦¨à¦•à ‡ যেভাবে দেখতে চেয়েছিলেন, সেই দেখাটাকে হয়তো সম্পূর্ণভঠবে তুলে ধরতে পারেনি তাঁর আত্মজীবনী, কবিতা তাহলেও পেরেছে ! কবিতা আসলে সেই না ঘটা ঘটনাগুলি, মনের চোখ দিয়ে দেখা ঘটনাগুলির ধারাবিবরণ । ঘটেনি, অথচ ঘটলে ভাল হত ।


কাল অনেকক্ষণ
তোমার সঙ্গে কথা হল ।
তোমার সব মনে আছে —
মাঠে মাঠে প্রজাপতি ওড়ানোর গল্প,
ভোরবেলা পুরোপুরি ভোরবেলা হবার আগে
তার সবকটা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া !
কতদিন আগের সেইসব গল্প ।
যে গল্প খেলাধুলোর গল্প
তা কখনো পুরোনো হয় না
তা কখনো ভুলে যাওয়া হয় না ।

খেলতে খেলতে এক একদিন
তোমার বাড়ি আর আমার বাড়ি
একটা বাড়ি হয়ে যেত ।

তার মধ্যেই বৃষ্টি নামানো ।
তার মধ্যেই জলে ঘর ভাসিয়ে দেওয়া ।
টেরও পাচ্ছি না জলে ভেসে গিয়েছে ঘর,
এমনকি একটা কাগজের নৌকোও
টলমল করে এগিয়ে যাচ্ছে ঘরের মধ্যে ।
(খেলাধুলো । মধ্যাহ্নেঠদেশকাল)

এইটি কবিতা হিশেবে পড়তে পারি, কবির আত্মজীবনী হিশেবেও পড়তে পারি । সে সুযোগ আমাদের কাছে রয়েছে । তাহলে, ‘জ্বালানী কাঠ, জ্বলো’ কি আর পড়ার দরকার নেই ? আছে, ব্যক্তি আলোক সরকারকে জানার প্রয়োজন আছে, তাই এ à¦†à¦¤à§à¦®à¦œà§€à¦¬à¦¨à§€à °à¦“ প্রয়োজন আছে, অন্যটি কবি আলোক সরকারের আত্মজীবনী । ব্যক্তি আলোক সরকারের আত্মজীবন কথায় কবিকে খুঁজে পাওয়া যে যাবেনা একেবারেই, বিষয়টা তেমন নয় । কিন্তু কবি আলোক সরকারের à¦†à¦¤à§à¦®à¦œà§€à¦¬à¦¨à§€à ¤à§‡ ব্যক্তিকে আমরা খুঁজতে যাবো না, খুঁজে পাব না । এতদূর এসে, একটা কথা বুঝতে চাইব এবার, শুধু কবি আলোক সরকার বলেই নয়, আমাদের হতে চাওয়া গুলি, মানসিক à¦œà§€à¦¬à¦¨à¦•à¦¥à¦¾à¦—à§à ²à¦¿ এইভাবে ধরা থাকে আমাদের সকল কবিতায় ?



৬.
এই লেখাটির বিষয় ছিল, যেমন লেখা হয়েছে শিরোনামে, হওয়া না হওয়ার গল্প । কবি আলোক সরকারের একটি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ধরতে চেয়েছিলাম এ বিষয়টিকে । একটা সময়ের পর, এই লেখা নিজের গরজে এগিয়েছে, আমার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে, আমি লেখাটিকে অনুসরণ করেছি মাত্র । একটি উক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চেয়েছিলাম যেখানে, ঘটনাচক্রে দেখা গেল, তাঁর কবিতা ও কবি আলোক সরকার বিষয়ের গভীরে এসে জুড়ে বসলেন । ফলত এ লেখার শিরোনাম এমনটা হওয়াই সঙ্গত ছিল– আলোক সরকারের কবিতা : হওয়া না হওয়ার গল্প ! কিন্তু আমি যা লিখতে চাইনি, শিরোনামে তাকেই বা সমর্থন জানাতে যাব কেন ! শিরোনামে তাই লিখলাম, যা লিখতে চেয়েছি । শুধু এটুকু স্বীকার করে নিতে চাই, আমি লেখাটির অভিমুখ ঘুরিয়ে দিতে চাইনি । এতক্ষণ ধরে বোঝাতে চেয়েছি কতটা জানি না, বুঝতে চেয়েছি যে হতে চাওয়া আর হয়ে ওঠার মধ্যে বিস্তর ফারাক থেকে যায় ! এ লেখাটির পরিণতির মধ্য দিয়ে সেই সত্যটিকে আরও একবার জেনে-বুঝে নেওয়া গেল, বলার বলতে এ টুকুই !